Skip to content
Home » জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

দিন যতই যাচ্ছে টাকা লেনদেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ মাধ্যম হয়ে উঠছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশে ব্যাংক নির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলছে টাকা তোলা টাকা পাঠানো মাসিক বেতন বৃদ্ধির ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা খুবই প্রয়োজন হয়। অনেকেই মনে করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা খুবই কঠিন একটি কাজ অথচ প্রয়োজনে ডকুমেন্টস এবং যথাযথ পন্থা জানা থাকলে কোন প্রকার ঝামেলা কিংবা অসুবিধার সম্মুখীন না হয়েই অনায়েসেই আপনি একটি একাউন্ট খুলতে পারবেন যেকোনো ব্যাংকে। তবে জনতা ব্যাংক একটি অতি প্রাচীন ব্যাংক এই ব্যাংকের একাউন্ট কিভাবে খুলতে হয় এটিও আপনার জানা থাকা প্রয়োজন। যদি আপনি জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জেনে এসে থাকেন তবে সঠিক জায়গায় এসেছেন আমরা এখানে পূর্ণাঙ্গ রূপে আলোচনা করব জনতা ব্যাংকে

একাউন্ট খোলার নিয়ম:  জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম-

জনতা ব্যাংকে মূলত চার ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। অ্যাকাউন্ট খোলার আগেই আপনাকে এই চার ধরনের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নিয়ে কি ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলবেন সে বিষয়ে ভালো করে জেনে নিতে হবে। তাই সকলের সুবিধার্থে নিচে বর্ণিত যে চার ধরনের অ্যাকাউন্ট জনতা ব্যাংকে খোলা হয় শেষ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব এরপরে আমরা নিয়ম সম্পর্কে জানাবো।
১. সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান চাইলেই সেখানে হিসাব খুলতে পারবেন।
২.Deposit বা স্থায়ী আমানত সঞ্চয় স্কিম ও বিশেষ স্কিম
৩. অ-ব্যক্তিক হিসাব
৪. ব্যক্তি হিসাব

জনতা ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কি কি দরকার হয় তাও আপনাকে পুঙ্খানুপুঙ্খানু ভাবে জানা দরকার তাই আলোচনা করছি। জনতা ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে /জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যা যা লাগবে তা নিচে দেওয়া হল:

*Deposit বা স্থায়ী আমানত, সঞ্চয় স্কিম ও বিশেষ স্কিম /ব্যক্তিক হিসাব
*ভোটার আইডি কার্ড
*বিদ্যুৎ বিল অথবা পানির বিলের কাগজ
*এন্ট্রি ডিসার এর একাউন্ট নাম্বার
*আপনার ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
*ব্যাংক আবেদন ফরম যা জনতা ব্যাংকে গেলে দিবে।
*ট্যাক্স বা ভ্যাটের কাগজের ফটোকপি
*কাগজপত্র সত্যায়িত থাকতে হবে।

১. ভোটার আইডি কার্ড/জাতীয় পরিচয় পত্র ফটোকপি:

ব্যাংকে একাউন্টের জন্য আগ্রহী ব্যক্তির এবং নমিনির যিনি আপনার অবর্তমানে ব্যাংক হিসাব দেখাশোনা করবেন কিংবা আপনার একাউন্টের মালিক হবেন মৃত্যুর পর তার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা পাসপোর্ট যে কোনো একটি ফটোকপি হলেই হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা সত্যায়িত কপি চাবে। বুঝিয়ে বলছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলতে বোঝায় আপনার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার ওয়ার্ড কমিশনার ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ আপনার ইচ্ছামত যে কোন একজনের কাছ থেকে সত্যায়িত করে নিয়ে আসতে পারেন।

২. বিদ্যুৎ বিল অথবা পানির বিলের কাগজ

একটি ব্যাঙ্ক কোম্পানি কখনোই আপনার সম্পর্কে সম্যক ধারণা না নিয়ে আপনাকে একাউন্ট করাতে ইচ্ছুক হবে না সেজন্যে ঠিকানা সত্যতা যাচার জন্য বিদ্যুৎ বিল কিংবা পানি বিলের কাগজ চাইতে পারে কাগজ বিগত তিন মাসের মধ্যে হতে হবে।

৩. ইনট্রিডিসার এর একাউন্ট নাম্বার

ইনট্রিডিসার একাউন্ট নম্বর কি এটা আগে আপনাকে ক্লিয়ার বুঝতে হবে পরিচয়কারী ব্যাংক একাউন্টের নাম্বার। অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যাকে আপনি চিনেন বা আপনার খুব পরিচিত এবং তার এই জনতা ব্যাংকেই পূর্বে থেকে একটি একাউন্ট রয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি এই ধরনের কোন ব্যক্তি আপনার পরিচিত না থেকে থাকে তবে ব্যাংক কর্মকর্তা  আপনাকে সহযোগিতা করবেন।

৪. চার কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি

অ্যাকাউন্ট হোল্ডার এবং নমিনি উভয় মিলে দুই কপি করে মোট 4 কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি নমিনির ছবি দুটি অবশ্যই সত্যায়িত হতে হবে।

৫. ব্যাংক আবেদন ফরম

আপনি চাইলে জনতা ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায় গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে পারেন অথবা অনলাইন থেকে ফরম ডাউনলোড করে ঘরে বসে পূরণ করে নিকটস্থ শাখায় গিয়ে জমা দিতে পারেন।

৬. টেক্স বা ভ্যাটের কাগজের ফটোকপি

টেক্স বা ভেটের কাগজ বলতে টিন সার্টিফিকেট বোঝায়। অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট ইংরেজিতে লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

৭. কাগজপত্র সত্যায়িত

ব্যক্তি হিসেব খোলার ক্ষেত্রে সকল কাগজপত্র মূল আবেদনপত্র সহ ব্যাংকের একজন অথরাইজ কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করতে হবে।

৮. প্রাথমিক জমা

হিসেবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা একাউন্টে জমা রাখতে হবে।

জনতা ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক একাউন্ট খোলার নিয়ম

স্বায়ত্ত শাসিত বা মালিকানা অথবা আধা মালিকানা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসেব খোলার জন্য কিছু কাগজপত্র লাগবে। এ ধরনের হিসেব একাউন্ট খুলতে হলে উপরে ডিপোজিট একাউন্ট খোলার জন্য যে সকল ডকুমেন্ট প্রয়োজন এবং তার সাথে যে যে কাগজপত্র লাগবে তা হল:
১. অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে চুক্তিপত্রের ফটোকপি
২. অংশীদারীদের ঠিকানা সমূহ এবং নামের তালিকা।
৩. ব্যবসায়িক সনদ বা ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি
৪. শেয়ার হোল্ডারের ছবি
৫. নমিনির স্বাক্ষর (ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সামনে)
৬. ব্যবসায় অথেন্টিকতা যাচাইয়ের জন্য ও শেয়ার হোল্ডারদের প্রমাণ হিসেবে সর্বশেষ পরিচালনা এবং অডিট রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।

সরকারি/আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এর একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে/ও ব্যক্তি হিসেবে যে ধরনের জনতা ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে যা যা লাগবে:

১. এ ধরনের হিসেব খোলার ক্ষেত্রে উপরের ডকুমেন্ট ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।
২. কোম্পানির মেমোরেন্ডাম ও সার্টিফাইড আর্টিকেল অফ এসোসিয়েশন।রেজুলেশন বা বোর্ডের সভাপতি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত পরিচালকের ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে।
৩. ব্যবসা শুরুর সার্টিফিকেট (লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে)
৪. শেয়ার হোল্ডারদের অনুমতি ও অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর প্রত্যয়ন পত্র কমপক্ষে পাঁচজন শেয়ারকারী পরিচালক আর যেসব ক্ষেত্রে পাঁচজনের কম তাদের সবার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ জমা দিতে হবে।
৫. স্বাক্ষরকারীদের ছবি
৬. ট্রেড লাইসেন্স
৭. সরকারি আধার সরকারি সাহিত্য শাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পত্র এবং হিসাব পরিচালনাকারীর ব্যক্তিগত তথ্য। ব্যক্তিগত তথ্য বলতে সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত একাউন্ট খুলতে যা প্রয়োজন সে সমস্ত তথ্য।
৮. বেসরকারি স্কুল কলেজ মাদ্রাসা হিসাব খুলতে হলে পরিচালনা কমিটি বা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের পূর্ণ পরিচিতি অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ইত্যাদি নথিপত্র অতিরিক্ত সংযোজন করতে হবে।

জনতা ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন কোথায় কিভাবে

আপনি চাইলে চেক কিংবা এটিএম বুথের মধ্যে সহজে টাকা উঠাতে পারেন একাউন্ট খোলার সাথে সাথে আপনার চেক পেয়ে যাবেন প্রতি ১০ পাতা চেকের জন্য আপনাকে ৩০ টাকা পরিশোধ করতে হবে আর যদি এটিএম কার্ড চান সেক্ষেত্রে আপনাকে কার্ডের জন্য কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারা আপনাকে নির্দিষ্ট তারিখ বলে দিবে। কোথায় ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন সেটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার তবে অ্যাকাউন্ট খোলার আগে কিছু সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা করা প্রয়োজন। ব্যাংকের শাখা আপনার শহরে আছে কিনা থাকলে তার দূরত্ব কত আপনার বাসা কিংবা কর্মস্থল থেকে কতটুকু দূরে দেশের কতটি জেলা এর শাখা সমূহ রয়েছে সাপ্তাহিক কত দিন বন্ধ থাকে ইত্যাদি বিবেচনা করে আপনাকে একাউন্ট খুলতে হবে তবে জনতা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সব জায়গায় আছে তাই অনায়াসে জনতা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করতে পারেন।
শেষে, প্রিয় পাঠক বন্ধুরা জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম আপনারা স্পষ্ট জানতে পারলেন তাই জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলা নিয়ে কোন সমস্যা এখন আর আপনার নিকট নেই পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে সেই অনুযায়ী কাজ করলে তবেই আপনি একটি সুন্দর জনতা ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন। ব্যাংকের দিকে যে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *