Skip to content
Home » ইসলামিক গল্প

ইসলামিক গল্প

আসসালামু আলাইকুম সুপ্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা আপনি নিশ্চয়ই ইসলামিক গল্প অর্থাৎ Islamic story সম্পর্কে জানতে এসেছেন অনেক ইসলামিক ঘটনা বা কাহিনী ইত্যাদি থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়ে থাকে তাই আজকের এই ব্লক পোস্টে কয়েকটি হেদায়েত মূলক ইসলামিক গল্প আলোচনা করব।

কুর আন হাদিসে বর্ণিত কবরের আজাবের বর্ণনা।  খাইরুন নাস সাজের ঘটনা

খাইরুন না সাজ এর ঘটনা খুবই প্রসিদ্ধ তিনি মৃত্যু সময় বলেছিলেন একটু অপেক্ষা করুন আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন আপনার উপর যা হুকুম তার সময় তো শেষ হয়ে যাচ্ছে না কিন্তু আমার উপর আল্লাহর হুকুম অর্থাৎ ইবাদত পালনের সময় তো এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে অতঃপর তিনি পানি চাইলেন এবং অজু করে নামাজ আদায় করলেন তারপর বললেন আপনি এবার আপনার প্রভুর আদেশ পালন করুন অর্থাৎ ইন্তেকাল করলেন। ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহির অন্তিম ঘটনা কথিত আছে যে যেদিন ওমর ইবনে আব্দুল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইন্তেকাল করেন সেদিন বললেন আমাকে তুলে বসাও পরিচর্যা কারী রা উঠিয়ে বসালেন তখন তিনি কেঁদে কেঁদে বললেন আমি তো সেই ব্যক্তি যে আহকাম পালনের ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছে এবং গুনাহের ক্ষেত্রে অগ্রগামীতা দেখিয়েছে এ কথা তিনবার বলে কালেমা পাঠ করলেন এবং মাথা উঁচিয়ে কি যেন গভীরভাবে দেখতে লাগলেন লোকেরা জিজ্ঞেস করল হে আমিরুল মু’মিনীন আপনি এত মনোযোগ দিয়ে কি দেখছেন তিনি জবাব দিলেন ।
আমি এমন কিছু অবয়ব দেখতে পাচ্ছি যা যারা মানুষ নয় এবং জীর্ণ নয় বলেন হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির মৃত্যুর সময় আমরা উপস্থিত ছিলাম শুধু একজন খাদেম তার কাছে ছিল ওই সময় তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করছিলেন এই বড়লোক আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না খোদাভীরুদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম সূরা কাসাস আয়াত নং ৮৩ অতঃপর বললেন নিশ্চয়ই তোমরা মানুষও নও অতঃপর খাদেম আমাদেরকে ভেতরে যেতে বলল আমরা ভিতরে গিয়ে দেখি আমিরুল মোমেনীন হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু আর পৃথিবীতে বেঁচে নেই।

এক কাফন চোরের ঘটনা

এক ব্যক্তি আবু ইসহাক হাজারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে জিজ্ঞেস করল কাফন চোরের তওবা কি কবুল হবে তিনি জবাব দিলেন যদি তার নিয়ত ভালো হয় এবং আল্লাহ তাআলা তার আন্তরিকতা সম্পর্কে জানেন লোকটি তাকে বলল আমি কাফনের কাপড় চুরি করতাম অর্থাৎ কবর খনন করে কাফনের কাপড় বের করে নিয়ে আসতাম তখন কিছু লোকের মুখে কিবলা থেকে অন্য দিকে ফিরানো অবস্থায় দেখতাম এ কথা শুনে হাজারী চুপ করে রইলেন এবং রহমাতুল্লাহি আলাইহি কে লিখে পাঠালেন আল্লাহর কাছে বিবেচিত হতে হবে আর যে সকল মৃতদের মুখ দেখেছে তারা সুন্নত তরিকার বাইরে মৃত্যুবরণ করেছে।

জনৈক্য ব্যক্তির মেয়ের ঘটনা

জনৈক বুজুর্গ বলেন আমার একটি মেয়ে মারা গিয়েছিল আমি তাকে কিবলামুখী করে কবরে রাখলাম অতঃপর যখন কবরের মাটি ঠিক করি তখন তাকে কি বলে থেকে অন্যদিকে ফিরানো দেখতে পায় এবং মনে অত্যন্ত ব্যথা অনুভব করি একদিন তাকে স্বপ্নে দেখলাম সে আমাকে বলছে হে আব্বাজান আপনি আমাকে কিবলার দিক থেকে ফেরানো দেখে খুবই মর্মাহত হয়েছেন আমার আশেপাশের প্রায় সবাইকেই কিবলার দিক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এর দ্বারা মেয়েটি এ কথার দিকে ইঙ্গিত করল যে যারা করে তাদের সাথে এমন ব্যবহার করা হয়। এই ঘটনাগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

আযানের সময় টেলিভিশন বন্ধ না করার কারণে শাস্তি পেল এক মহিলা

তাবলীগে যাওয়া এক বন্ধু ভারতের এক এলাকায় একটি বিস্ময়কর ঘটনা শোনালেন তিনি বলেন তাবলীগ জামাতের সঙ্গে আমরা এক মসজিদে গেলাম মসজিদে অবস্থানের পর আমাদের কাজে আমরা নিয়ে যেতে ছিলাম এমন সময় মহল্লার কয়েকজন লোক এসে বলল আপনারা দয়া করে আমাদের সঙ্গে আমাদের বাড়িতে চলুন আমরা ভীষণ বিপদের সম্মুখীন হয়েছি। আমাদের ঘরের একজন মেয়ে মারা গেছে তার লাশ ঘিরে রেখেছে বিষাক্ত বিচ্ছুর মতো দেখতে একদল কাক জোর অর্থাৎ কাঁকরার মত ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দেখতে পেলাম লাশের চারিদিকে মুখ খোলা এই কাক চোর গুলো অবস্থান নিয়েছে এরা কাউকে লাশের পাশেও যেতে দিচ্ছে না মেয়েটিকে গোসল দেওয়া কাফন পড়ানো কবর দেয়া দরকার কিন্তু কিছুই করা যাচ্ছে না মেয়েরা এসেছেন আপনারা দোয়া করুন যেন মহান আল্লাহ আমাদের এই কঠিন বিপদ থেকে মুক্তি দান করেন দাফন করতে পারি।
আমরা এক জায়গায় বসে পড়লাম এবং দোয়া-দরুদ পাঠ করে মোনাজাত করলাম। বললাম হে আল্লাহ আপনার এই মাখলুকদেরকে অর্থাৎ কাকরা গুলিকে সরিয়ে নিন যেন এই মহিলার গোসল কাফন দাফন করা সম্ভব হয় দোয়া এবং কান্নাকাটির ফলে কাঁকরাগুলো সরে এক পাশে গিয়ে জড়ো হল আমরা চলে এলাম মহিলাটিকে গোসল দেয়া হলো কাফন পরিয়ে কবরে নামানো হলো কবরে নামানোর সময় দেখা গেল ওসব কাকড়া গুলো কবরের এক কোণে জড়ো হয়ে আছে মহিলাকে কবর দেয়ার পর আমরা তার আত্মীয়-স্বজনকে মহিলার জীবনযাপন এবং আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম আমাদের বলা হলো যে সে নামাজ আদায় করত না সব সময় টেলিভিশন নিয়ে মেতে থাকতো টেলিভিশনে বিভিন্ন টেলিভিশনে গানের অনুষ্ঠান চলছিল এ সময়ে মসজিদে আজান হচ্ছিল মেয়েটির মা বললেন ওই মেয়ে টেলিভিশন বন্ধ করো মসজিদে আজান হচ্ছে। মেয়েটি বলল মা আজান তো প্রতিদিনই হয় কিন্তু এরকম গান তো সবসময় প্রচারিত হয় না মেয়েটি টেলিভিশন বন্ধ করেনি এসব কথা শোনার পর আমাদের মনে হল মহান আল্লাহর নামের উপর গান-বাজনা কে প্রাধান্য দেওয়ায় আল্লাহ অসন্তুষ্ট হয়েছেন আযানের সময় টেলিভিশন বন্ধ না করা বেনামাজি এই মেয়েটি কিছুদিন পর মারা যায় এবং তারপর এই ঘটনা ঘটে।

আয়াতুল কুরসির বরকতে আমি জিনের হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম

অনেকবার শুনেছি চুরি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং জিনের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আয়াতুল কুরসি পাঠ করা বিশেষ উপকারী সৌদি আরবের বারিধায় চাকরি করার সময় দোতলা ফ্ল্যাটের মতো একটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলাম নতুন তৈরি এ বিল্ডিং ছিল খালি বড় রাস্তায় পাশে অবস্থিত এই বিল্ডিং এর নিচ তলায় আমি ক্লিনিক স্থাপন করলাম এবং দোতালায় থাকার ব্যবস্থা করলাম। বিল্ডিং এর নিচতলায় তিনটি দোতালায় তিনটি কামড়াচ্ছিল একটি কামরা দরজা বাইরে থেকে খোলা যেত যেখানে ছিল একটি ছোট্ট বাবুর্চি খানা এবং গোসলখানা। এছাড়া যে কামরায় আমি থাকতাম আর শেষ দিকের কামরাকে ড্রয়িং রুম হিসেবে ব্যবহার করতাম।
একদিন মাছ রান্না করলাম প্লেটে মাছ রেখে বাজারে রুটি কিনতে গেলাম রুটি নিয়ে এসে দেখি প্লেটে মাছ নেই গোসল খানায় গায়ের সাবান মাখানোর সময় হঠাৎ দেখি আমার হাতের সাবান নেই খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া গেল না এসব ঘটনা আমার মনে সন্দেহ জাগালো যে আমি ছাড়াও এই ভবনে অদৃশ্য কেউ বসবাস করে আমি সব সময় জিকির করতাম এবং দৌড় পাঠ করতাম এ কারণে আমার মনে কোন প্রকার ভয়ের উদ্রেক হত না মনে থাকতো শক্তিশালী উৎসাহ। এবং সব সময় থাকতাম শান্ত কোন টেনশন অনুভব করতাম না এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাৎ প্রচন্ড শব্দের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ হয়ে গেল এবং কিছুক্ষণ পর দরজা খুলে গেল আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল বছর দশকের একটি বালক ক্রুদ্ধভাবে আমার দিকে এগিয়ে আসছিল আমি জোরে জোরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করতে লাগলাম ।
আমার নিকট থেকে দুই গজ দূরে এসে বালক হঠাৎ বাম দিকে ঘুরে বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছিল আমি তাকে ধরার জন্য দরজার কাছে গিয়ে দেখি সেখানে কেউ নেই। দরজা বন্ধ ছিল এবং তালার চাবি ছিল আমার হাতে এই ঘটনার পর আমি সতর্ক হয়ে গেলাম আয়তুল কুরসি পড়ে ছাদের উপরে শুয়ে থাকতাম আমার কোন ক্ষতি হতো না কয়েক মাস পর হাসপাতালের কোয়ার্টারে চলে গেলাম আমি চলে আসার পর একজন সিরিয়াল ডাক্তার সেই ভবন ভাড়া নিলেন একদিন সেই ডাক্তার ডিউটিতে এলেন না হাসপাতালে খবর নেয়ার জন্য পাঠালাম দেখা গুলো দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ডাক্তারের ভিতরে ঢুকে দেখা গেল তার সব জিনিসপত্র ভেঙ্গে চুরমার করা হয়েছে শক্তিশালী পরবর্তীকালে সেই ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল।

মৃত্যুর কষ্টের গল্প

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কোথাও যাচ্ছিলেন তিনি একটি কবর দেখে বললেন এটা নুহ আলাই সাল্লাম এর ছেলে স্বামীর কবর যখন তুফান আসলো সবাই মৃত্যুর কবলে পড়ল এরপর নূহ আলাইহি সাল্লাম এর তিন সন্তান থেকে আবর পৃথিবী আবাদ হয়েছিল তিন সন্তান হলেন সাম হাম ইফিস আমরা সবাই সামনের সন্তান সমস্ত আফ্রিকা বাসি হামের সন্তান। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর সাথীরা আরজ করলেন হে আল্লাহর নবী ইছা আপনি তাকে জিন্দা করেন কেননা আপনি বললে আল্লাহ পাক মৃতকে জিন্দা করে দেন ঈসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুকুম দিলেন সান জিন্দা হয়ে কবর থেকে বের হলেন এবং কিছু কথাবার্তা হলো বললেন যাও কবরে চলে যাও শ্যাম বললেন দ্বিতীয়বার যেন আমার মৃত্যুর কষ্ট না হয় কেননা আমার মৃত্যুর সময় আমার যে কষ্ট হয়েছিল এর ব্যথা আজও আমার হাড্ডিতে বিদ্যমান এখানে এর জন্য কোন ব্যাথা নাশক ঔষধ নেই তাকওয়া এবং পরহেজগারী ছাড়া এর কোন উপশম্য নেই দেখুন কত বড় প্রমাণ মৃত্যু আমাদের প্রত্যেক পুরুষ ও মহিলার উপর আসবে অথচ আমাদের কত বড় গাফিলতি এর মৃত্যুর জন্য কি আমরা প্রস্তুত নিচ্ছি কবরের সম্বল আমাদের জোগাড় হয়েছে কি খবর সম্পর্কে বলা হয়েছে কবর হলো সাদবির ঘর কবর নির্জন আতঙ্কের ঘর কবর একা থাকার ঘর পোকামাকড়ের ঘর একবার হযরত ঈসা আ এক মহল্লা অতিক্রম করার সময় দেখলেন সবকিছু বরবাদ হয়ে বাড়ি ধ্বংস হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে।
ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন এদের উপর আল্লাহর আজাব এসেছে এসব আল্লাহর নাফরমানীর কারণেই হয়েছে ঈসা আলাইহিস সালাম মৃতদের সাথে কথা বলতে পারতেন ঈসা আলাইহিস সালাম আওয়াজ দিলেন হে বস্তি ওয়ালারা জবাব এলো আমরা হাজির হে আল্লাহর নবী ইসালে সাল্লাম বললেন তোমাদের কি গুনা ছিল এবং কিভাবে ধ্বংস করা হলো আওয়াজ এল আমাদের দুটি কাজ ছিল এক দুনিয়ার প্রতি প্রচুর মহব্বত দ্বিতীয় হচ্ছে তাওয়া গতিতে একসাথে মহব্বত ছিল ঈসা আঃ বললেন তাওয়াদিত এর সাথে মহব্বতের উদ্দেশ্য কি আওয়াজ এলো নিকৃষ্ট মন্দ প্রকৃতির লোকদের সাথে সুসম্পর্ক ছিল আর নিকৃষ্ট লোকদের সাথে উঠাবসা করতাম ঈসা আঃ বললেন দুনিয়ার মহব্বত দ্বারা উদ্দেশ্য কি আওয়াজ এল আমাদের ভালোবাসা দুনিয়ার সাথে এমন ছিল যেমন মা তার নিজ সন্তানকে ভালোবাসে যখন আমরা দ্বন্দ্বল হাতে পেতাম খুবই আনন্দিত হতাম যখন তার হাতছাড়া হয়ে যেত তখন আমরা অস্থির হয়ে যেতাম হালাল-হারাম চিন্তা না করেই সম্পদ কামাই করতাম জায়েজ নাজায়েজ সম্পদ ব্যয় করতাম এর মধ্যেই আমরা ধরা সেই হলাম ঈসা আঃ জিজ্ঞেস করলেন এরপর তোমাদের সাথে কেমন আচরণ করা হয়েছে।
আওয়াজ এল রাতে আমরা সবাই ঘরে শুয়ে ছিলাম কিন্তু সকাল হলেই দেখি আমরা সবাই হারিয়াতে পৌঁছে গেছি ঈসালে সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন সেটা হচ্ছে ঈসা আঃ জিজ্ঞেস করলেন কি আওয়াজ এল হে আল্লাহর একটি আঙ্গার জলন্ত কয়লা সাতটি দুনিয়ার সমান এবং আমাদের রুহকে সেখানে দাফন করে দেওয়া হয়েছে। আলাই সালাম জিজ্ঞেস করলেন তুমি একা কথা বলছ আর কি কেউ নেই কথা বলার মতো আওয়াজ এল হে আল্লাহর নবী সবাইকে মুখে আগুনের লাগাম দেয়া হয়েছে এর জন্য তারা কথা বলতে পারেনা তাদের মুখ বন্ধ আমার মুখ বন্ধ হয় নাই লাগামও দেওয়া হয় নাই তাই আমি বলতে পারছি ঈসা আঃ বললেন তুমি কিভাবে বাসলে আওয়াজ দিলে আমি বসে আছি আমাকে এজন্য দেওয়া হয় নাই আমি তাদের সাথে থাকতাম ঠিকই কিন্তু তাদের মত চলাফেরা করতাম না কিন্তু তাদের সাথে থাকার কারণে আমাকে পাকড়াও করা হয়েছে এখন আমি কিনারায় এমন স্থানে বসা আছি ঠিক নেই কোন সময় নিচে পড়ে যায় আমি জানিনা

অদৃশ্য আযাবের গল্প

একবার ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর কাছে প্রশ্ন করা হলো হযরত আমরা ওলামায়ে কেরামের কাছে কবরের আজাব সম্পর্কে শুনি মৃত্যুর পর তার গুনাহের জন্য কবরের আজাব হয় মাঝেমধ্যে এমনও হয় যে কোন কারণবশত কবর খুঁজে দিতে আবার লাশ তুলতে হয় তখন তো কবরের ভেতর কোন ভয়ংকর জিনিস যেমন সাত বিচ্ছু আগুন কিছুই নজরে আসে না প্রশ্ন শুনে ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন চিন্তা-ভাবনা করে বললেন মনে করেন আপনি ঘুমিয়ে আছেন স্বপ্ন দেখছেন আপনাকে খুন করার জন্য খুনি নাঙ্গা তরবারি হাতে ঘুরছে সাদ বিচ্ছু আপনাকে আক্রমণ করছে বা কখনো স্বপ্ন দেখলেন আগুন লেগেছে আপনি আগুন থেকে বাঁচতে পালাচ্ছেন চিৎকার করছেন কিন্তু আপনার সাথের লোক এ ব্যাপারে কিছুই জানে না জেতার ঘুমন্ত সাথী স্বপ্নে কি দেখছে মাঝেমধ্যে কেউ ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন তার চেহারায় বৃদ্ধির ছাপ দেখা যায় চেহারা ফ্যাঁকা শো হয়ে যায় শরীর ঘেমে যায় হে ভাই এই ঘুম মৃত্যুর ছোট ভাই কবরের ঘুম তো বড় কবরের সাপের শাস্তি অবশ্যই হয় মৃত ব্যক্তির যা অনুভব হয় যদিও আমাদের চর্মচক দেখুক বা না দেখুক। যেমন বুখারী শরীফের 942 নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে মানুষ এবং জিন ব্যতীত সব সৃষ্টি মৃত ব্যক্তির উপরে কবরের আজাব হয় তা শুনতে পায়।

এক যুবকের আশ্চর্যনিত ঘটনা

আবুল ইয়ামান বললেন কালো চুল দাড়ি বিশিষ্ট এক যুবক রাতে ঘুমালো সে স্বপ্নে দেখল সকল মানুষ জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ডের পাশে জড়ো হয়েছে তার উপর একটি পুল মানুষ ফুল অতিক্রম করছে তারা মানুষের নাম ধরে ডাকছিল যাদের কেউ মুক্তিপ্রাপ্ত আর কেউ ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল সে বলল এক ব্যক্তি আমার নাম ধরে ডাকল আমিও ফুল সিরাতের উপর উঠলাম তা ছিল তরবারির মতো ধারালো আমার ডান বাম এর প্রভাবে কাঁপছিল আবুল ইয়ামান বর্ণনা করেন যখন সকাল হয়ে গেল সেই যুবকের চুল দাড়ি চিন্তায় সাদা হয়ে গেল শারীরিক এ কেমন পরিবর্তন ভয়ংকর স্বপ্নের প্রভাবে ঘটেছে এই ঘটনাটি রয়েছে ইবনে আবিদ দুনিয়া একটি গ্রন্থে।

হযরত মুসা আঃ এর একটি যুগান্তকারী ঘটনা

হযরত মূসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখন ওফাত হল তখন আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করলেন মুসা আঃ তুমি মৃত্যুকে কেমন পেলে প্রতিউত্তরে তিনি আরশ করলেন এই ইলাহী আমি আমার জান টাকে এমন দেখলাম যেন একটি জীবন্ত চড়ুই পাখিটাকে এমন ভাবে ভুনা করা হচ্ছে যে সেটি মরছেও না আবার উড়তেও পারছে না অন্য আরেক রেওয়াতে আছে অবস্থা এরূপ হয়ে গেল যেন একটি জীবন্ত বকরির চামড়া ছিড়ে ফেলা হচ্ছে।হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর সূত্রে বর্ণিত যখন হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালামের ইন্তেকালের সময় হল তখন তার নিকট পানি ভর্তি একটি পাত্র রাখা হলো প্রিয় নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার পেয়ালার মধ্যে হাত রেখে ভেজা হাত চেহারার মধ্যে ছিটিয়ে দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন হে আল্লাহ মৃত্যুর যন্ত্রনায় তুমি আমাকে সাহায্য কর। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু একবার হযরত কাফ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু কে বললেন তুমি আমার নিকট মৃত্যুর অবস্থা বর্ণনা করো তিনি আরজ করলেন আমিরুল মোমেনীন যেমন একটি কাটা বিশিষ্ট দয়াল একটি মানুষের পুরো শরীরে প্রবিষ্ট করা হলো আর সেটাকে আবার টেনে বের করা হলো এরূপভাবে জান বের করা হয়।

হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর ঘটনা

দিন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মালাকুল মাউত হযরত আজরাইল আলাই সাল্লাম কে বললেন আচ্ছা আপনি যে অবস্থায় নফরমান অপরাধীদের রুহ বের করেন সে রূপটি আমাকে একটু দেখিয়ে দিন না মালাকুল মউত আরজ করলেন হযরত রুটি দেখার শক্তি আপনার নেই আপনি সহ্য করতে পারবেন না হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন না আমি পারবো তাহলে আপনি অন্যদিকে মুখ ফেরান হযরত ইব্রাহিম আঃ তাই করলেন তারপর হযরত আজরাইল ইসলাম বললেন এবার তাকিয়ে দেখুনহযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম যখন মুখ ফিরিয়ে তাকালেন তখন দেখলেন দানব রুপী এক বিশালাকার কৃষ্ণাঙ্গ চুলগুলো তার লম্বা লম্বা খুব দুর্গন্ধযুক্ত তার পোশাক তার নাক মুখ থেকে আগুনের গোলা বেরুচ্ছে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর ভয়াবহ রূপ দেখে বেহুশ হয়ে পড়লেন।
দীর্ঘক্ষণ পর তার হুশ ফিরে এলো তখন দেখলেন হযরত আজরাইল আলাইহি সালাম তার নিজস্ব রূপে ফিরে গেছেন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন যদি গুনাহগার নাফরমানদের জন্য অন্য কোন বিপদ মুসিবত না হতো তাহলে আজরাইল আলাইহিস সালামের এই ভয়ংকর চেহারায় তার মসিবতের জন্য যথেষ্ট হত। আল্লাহ তাআলার নাফরমান বান্দাদের অবস্থা হবে ভিন্ন নেককার লোকদের রুহু কবজ করার জন্য হযরত আজরাইল আলাই সালাম অত্যন্ত সুন্দর আকৃতিতে উত্তম রূপে উপস্থিত হবেন। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম হতে বর্ণিত তিনি হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামকে বললেন আপনি যে অবস্থায় নেককার বান্দাদের রুহ কবজ করেন আপনার সেইরূপটি একটু প্রদর্শন করুন এত শ্রবণে হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম তার সেই রূপ প্রদর্শন করলেন একজন সুদর্শন যুবক তার মোহিত করে ফেলছে সামনেই বিদ্যমান সেই যুবক তখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন ফরমা বড়দার বান্দার জন্য যদি আজরাইল আলাইহিস সালামের এই সুদর্শন রূপ ছাড়া অন্য কোন আনন্দদায়ক জিনিস নাও হতো তাহলে যথেষ্ট হত।
পরিশেষে, পাঠক বন্ধুদের জানাতে চাই এরকম ইসলামিক অসংখ্য গল্প কাহিনী এবং শিক্ষনীয় ঘটনা আপনাদেরকে জানাতে পারব আপনারা কি ধরনের ঘটনা কিংবা গল্প পছন্দ করেন আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাবেন আমরা পরবর্তীতে আপনাদের সেরকম ঘটনা শোনাবো ইনশাল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *